পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা

জ্বালানি খাতে মজুদের ঘাটতিতে বাড়ছে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা

জ্বালানি খাতে মজুদের ঘাটতি বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

জ্বালানি খাতে মজুদের ঘাটতি বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ব্যাটারি শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের অভাব এবং প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি নিশ্চিতকরণে দুর্বলতার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। তারা বলছেন, উচ্চ প্রারম্ভিক ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব নতুন উদ্যোক্তাদের এ খাতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজা।

এ সময় জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে কেএম আলী রেজা বলেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও মুদ্রা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। সম্প্রতি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমেছে। ভূমি সংকট, অনিয়মিত উৎপাদন এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সঞ্চালন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাটারি শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের অভাব এবং প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি নিশ্চিতকরণে দুর্বলতা বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।’

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আখতার বলেন, ‘প্রকল্প পাস করানোর জন্য আমরা শুরুতে যে কথাগুলো সুন্দরভাবে লিখি, বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখি না। বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যত যত্ন করে লেখা হয়, পরে তার ধারেকাছেও যাওয়া হয় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘কাগজে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আকর্ষণীয়ভাবে লিখে অনুমোদন নেয়া হলেও সেসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়ে যায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা না গেলে কোনো উদ্যোগই ফলদায়ক হবে না।’

পরিকল্পনা সচিব বলেন, ‘আমরা বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত পুরো একটি দলকে (গ্রুপ অব পিপল) একসঙ্গে দায়ী করি, যা ঠিক নয়। ইঞ্জিনিয়ারিং বা সড়ক প্রকল্পের ক্ষেত্রে কারা বাস্তবায়ন করছে, তা আমরা দেখতে পাই। কিন্তু বাস্তবায়নের মেসেঞ্জার ব্যর্থ হলে ২০, ২৫ বা ৩০ জনকে দোষারোপ করা হয়, যা বাস্তবসম্মত নয়। এক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে শাস্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। নতুবা ভবিষ্যতে কোনো উদ্যোগই কার্যকর হবে না।’

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব এমএ আকমল হোসেন আজাদ, শিল্প ও শক্তি বিভাগের সচিব ড. মোখলেস উর রহমান, কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অনেকে।

আরও